ঢাকা

বাংলাদেশের পর্যটনে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ চাইলেন বিমানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাঁর মতে, দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের শিল্প গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় জানানো হয়।

পর্যটনে বড় বিনিয়োগের সুযোগ

মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক। সুন্দরবন, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের পাহাড়-হ্রদ ও সিলেটের চা-বাগানের মতো পরিচিত গন্তব্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য ও পর্যটন আকর্ষণ।

এসব সম্ভাবনাকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিবেশ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

ইউরোপে পণ্য পাঠানোর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা

পর্যটন খাতের সঙ্গে বিমান যোগাযোগের সম্পর্ক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরকে আরও টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর সাজানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাঠানো পণ্য ও ডাককে ‘উচ্চ ঝুঁকির’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ২০১৭ সালের জুন থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ দূর করতে বাংলাদেশ কাজ করছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও জানান, গত ১৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের মূল্যায়নে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ দ্রুত তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে’

যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্তরাজ্যের জনগণের সমর্থন ছিল। ভবিষ্যতেও দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে এসে বিনিয়োগ করা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য ছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স