ঢাকা

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ বিএনপি-ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

আটক নেতা রিয়াজুলের বিরুদ্ধে তিন মামলা, অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের অভিযানে আটক নিষিদ্ধঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার একটি ফুটবল খেলার মাঠের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া ওই নেতার নাম রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০)। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও মাদক আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাঁদের নাম এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে।

ফুটবল খেলা থেকে আটক, পরে ধস্তাধস্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় রিয়াজুলকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে আটকের পর রঙতরঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন সদস্য বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের ধস্তাধস্তি হয়। এ সুযোগে আটক রিয়াজুলকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাস্থলে ঠিক কীভাবে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় এবং এতে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

রিয়াজুলের বিরুদ্ধে তিন মামলা

ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজুল আলমের বিরুদ্ধে থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত আইনে করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট ও ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ২ আগস্ট মাদক আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছিল।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে মাদক ও নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে আটক করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে নিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ওসি আরও বলেন, ধস্তাধস্তির ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি। রিয়াজুলকে হাতকড়া পরানোর সুযোগ পুলিশ পায়নি। পুলিশের অতিরিক্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের

ঘটনায় নাম আসা সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

মিলন মিয়া বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। দূরে চায়ের স্টলে ছিলাম। ছেলেটা আওয়ামী লীগ করায় পুলিশ ধরার পর ধস্তাধস্তি হতে দূর থেকে দেখেছি। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার নাম ছড়াচ্ছে।’

সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে। বরং তিনি পুলিশকে আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বারবার বলেছেন বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা থানায় অবস্থান করছি। বিস্তারিত পরে বলা হবে।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

পুলিশের কাছ থেকে আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাঁদের ভূমিকা যাচাই করা এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের বক্তব্যে স্থানীয় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এলেও অভিযুক্তদের কেউ কেউ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, কিংবা রিয়াজুল আলমকে পুনরায় আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র: স্থানীয় সূত্র ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশের বক্তব্য


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স