ঢাকা

শিক্ষামন্ত্রী: ‘ট্রল আমাকে সঠিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সাম্প্রতিক শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা আয়োজন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা ও ট্রল প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমালোচনা, ট্রল কিংবা অপপ্রচার তাঁকে বিচ্যুত করতে পারবে না। সরকারের লক্ষ্য জাতিকে সুশিক্ষিত করা এবং সেই দায়িত্ব পালনে তারা অটল থাকবে।

শনিবার দুপুরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‘ট্রল বা অপবাদে দায়িত্ব থেকে সরে যাব না’

বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ট্রল ও সমালোচনা করা হয়েছে। তবে এসবের সঙ্গে প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা তিনি দেখেননি।

তিনি বলেন, “আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করল, তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননিসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে আন্দোলন করতে দেখিনি। আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন, যে যত অপবাদই দেন না কেন, সঠিক দায়িত্ব থেকে আমাদের বিচ্যুত করতে পারবেন না।”

বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষা বৃষ্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, এক শিক্ষার্থী তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন—বৃষ্টির মধ্যেও কেন পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নিজের জবাব ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি শিক্ষার্থীকে জানিয়েছিলেন যে বৃষ্টির বিষয়টি নিয়ে তিনিও উদ্বিগ্ন ছিলেন। নিজের মেয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছিলেন, তাঁর মেয়ে তানজিদার মাথায় বৃষ্টির পানি লাগলে সহজেই জ্বর আসে। অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা তিনি উপলব্ধি করেন।

তবে তিনি বলেন, দেশের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু তাঁর ওই বক্তব্যের একটি অংশকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীরা ওই কথার একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করাল। সেটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলো। এভাবে জাতি যদি অর্ধকানা হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।”

‘অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার নির্দেশ কেউ দেয়নি’

শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শুধু লেখাপড়া করলেই হবে না, শিক্ষার গুণগত মানও বাড়াতে হবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, “কী করে ভাবতে পারেন, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না। আপনারা নিজ নিজ দায়িত্বে অটল থাকুন।”

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ হাছানাত আলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামসহ অন্যরা।

‘দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তাঁর মতে, এমন শিক্ষা প্রয়োজন যা ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয়ের উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখতে সক্ষম হবে। যে শিক্ষা বাস্তব জীবনে বা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে আসে না, সেই ধরনের শিক্ষা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে হবে।

‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় হবে অঞ্চলের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ ইতিহাসের ভিত্তি স্থাপন করবেন।

তিনি বলেন, ইউজিসির অনুমোদনের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

অস্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন, নবীনদের হাতে আমগাছের চারা

এর আগে শনিবার সকাল ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার এবং কম্পিউটার ল্যাব পরিদর্শন করেন।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ৮০ জন শিক্ষার্থীর হাতে আমগাছের চারা তুলে দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরিবেশবান্ধব বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

দুটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় একাডেমিক অনুমোদন পায় ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, যখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সভায় দুটি বিভাগ চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত বিভাগ দুটি হলো—

আইন অনুষদের অধীন আইন বিভাগ
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এ দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমের সূচনা হলো।

এদিকে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়ন, দায়িত্বশীল প্রশাসন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল বা সমালোচনা নয়, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স