ঢাকা

ইরানের হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত, উত্তেজনা নতুন উচ্চতায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। একই ঘটনায় অন্তত চারজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম এ তথ্য নিশ্চিত করে। গত মার্চ থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এই প্রথম কোনো হামলায় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সেন্টকমের বিবৃতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, গত ১৭ জুলাই জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন এবং একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি আহত হন আরও কয়েকজন সেনাসদস্য।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত চার সেনাসদস্যকে জর্ডানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামান্য আহত আরও কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিহত সেনাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

আজরাক বিমানঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্য

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, তারা জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার।

তবে হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন কিংবা সেন্টকম এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। পরে শনিবার সেন্টকমের বিবৃতিতে হামলায় মার্কিন সেনা হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আইআরজিসির নতুন হুঁশিয়ারি

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখলে আরও বিস্তৃত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আরও অভিযান চালানো হবে।

একই সময়ে ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, তারা ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধবিরতি নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইরানের দাবি, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও এরপরও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে।

তেহরানের ভাষ্য, এসব হামলা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযানেরই অংশ এবং ওয়াশিংটন কার্যত যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

ইরান আরও জানিয়েছে, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখবে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।

তবে ইরানের অভিযোগ, সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র বারবার হামলা চালিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।

বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং প্রতিশোধমূলক হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স