ঢাকা

মার্কিন সেনাসদস্য নিহতের জেরে ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ ট্রাম্পের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জর্ডানে মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

হামলার আগে জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরেকজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে সেন্টকম। একই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলে ওয়াশিংটনকে তার জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হয় সামরিক অভিযান

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসারে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ওপর ইরানের হুমকি এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জর্ডানে হামলায় জড়িত বলে যুক্তরাষ্ট্র যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ইউনিটগুলোকে দায়ী করছে, তাদের দ্রুত শাস্তি দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে, কতটি বিমান অংশ নিয়েছে বা অভিযানের পরিধি কতটা বিস্তৃত—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সেন্টকম।

দক্ষিণ ইরানে হামলার দাবি

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানায়, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্র এই বিমান হামলা চালিয়েছে।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

স্বাধীনভাবে এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত

এর আগে শুক্রবার জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন এবং আরও একজন নিখোঁজ হন বলে জানায় সেন্টকম।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য।

নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,

“বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলার জবাব দিতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের সংঘাত

প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল।

তবে গত সপ্তাহে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা জোরদার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা জবাব ইরানের

খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

এর জবাবে শনিবার ইরান পাল্টা হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের পাশাপাশি সৌদি আরব এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এসব হামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।

খামেনির কঠোর হুঁশিয়ারি

হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে চাইছে।

বিবৃতিতে খামেনি আরও বলেন,

“মার্কিন শত্রুরা যদি সংঘাত বাড়ানোর পথ বেছে নেয়, তবে তাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে এবং আরও অপমানিত হতে হবে। ইরানের বীর জাতি ও রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট এমন জবাব দিতে সক্ষম, যা তারা কোনো দিন ভুলতে পারবে না।”

হোয়াইট হাউসের নীরবতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, জর্ডান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমিত না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স