ঢাকা

বিএসি অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে নতুন মাইলফলক বিইউবিটির আইন ও বিচার বিভাগের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন ও বিচার বিভাগ বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) থেকে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে আইন শিক্ষার গুণগত মান, একাডেমিক কার্যক্রম এবং নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণের ক্ষেত্রে বিভাগটির অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। নির্ধারিত একাডেমিক মানদণ্ড ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম, একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষকতা, অবকাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করা হয়ে থাকে।

বিইউবিটির আইন ও বিচার বিভাগের এ অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এটি আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষায় নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিভাগের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিএসি কী

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাডেমিক কার্যক্রমের গুণগত মান যাচাই এবং অ্যাক্রেডিটেশনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে।

অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো উচ্চশিক্ষায় মান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মান বজায় রাখতে উৎসাহিত করা।

ফলে কোনো বিভাগের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন শুধু একটি সনদ বা স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয় নয়; বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমকে নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে মূল্যায়নের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার বিষয়ও।

আইন শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব

আইন শিক্ষা উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। একজন আইন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে বিচারব্যবস্থা, আইন পেশা, প্রশাসন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কিংবা নীতিনির্ধারণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে হয়। এ কারণে আইন শিক্ষার পাঠ্যক্রম, শিক্ষকতার মান, শিক্ষার পরিবেশ এবং একাডেমিক কার্যক্রমের গুণগত মান গুরুত্বপূর্ণ।

বিইউবিটির আইন ও বিচার বিভাগের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন বিভাগের এসব কার্যক্রমকে নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে মূল্যায়নের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে আইন শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও মানসম্মত ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার গুরুত্বও সামনে এসেছে।

উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া

বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম শওকত আলী এ অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে মানসম্মত রাখার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের মাধ্যমে আইন ও বিচার বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমের গুণগত মান মূল্যায়নের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আইন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মানসম্মত আইন শিক্ষার ধারাবাহিকতা

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশনকে গুণগত মান নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। এ ধরনের স্বীকৃতি অর্জনের ফলে একটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমকে নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়।

বিইউবিটির আইন ও বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন তাই বিভাগের বর্তমান একাডেমিক কার্যক্রমের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন শিক্ষার মান আরও উন্নত করার দায়িত্বও বাড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমে ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স