ঢাকা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা আয়োজনে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ‘স্টেম কার্নিভ্যাল’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (স্টেম) প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টেম কার্নিভ্যাল ২০২৬’। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার উত্তরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

কার্নিভ্যালে দেশের শতাধিক কলেজের এইচএসসি, এ লেভেল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কুইজ ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান।

আয়োজনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক এম নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক জাকি ইমাম, ডিন অব একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসার্চ অধ্যাপক এ কিউ এম শফিউল আজম এবং ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

দিনব্যাপী কার্নিভ্যালে চারটি প্রধান ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। এগুলো হলো—ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড, সায়েন্স অ্যান্ড আইসিটি অলিম্পিয়াড, কুইজ কম্পিটিশন এবং প্রজেক্ট শোকেসিং। প্রতিটি আয়োজনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগের পাশাপাশি নতুন ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পান।

ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীদের গাণিতিক যুক্তি, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়। অন্যদিকে সায়েন্স অ্যান্ড আইসিটি অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও আগ্রহ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশ্নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয়।

কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রজেক্ট শোকেসিং। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন। প্রকল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁরা বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে তার সম্ভাব্য প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান। একই সঙ্গে নিজেদের চিন্তা ও ধারণা অন্যদের সামনে উপস্থাপনের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।

আয়োজকেরা জানান, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক সমস্যা সমাধান ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করা সম্ভব। বিশেষ করে স্টেমভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কার্নিভালে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ধারণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়েরও সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা একে অপরের কাছ থেকে শেখার পাশাপাশি দলগতভাবে কাজ করেন এবং নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা উপস্থাপন করেন। এর ফলে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং উপস্থাপনা দক্ষতা বিকাশেও গুরুত্ব দেয়। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

স্টেম কার্নিভ্যালের মোট প্রাইজমানি ছিল তিন লাখ টাকা। দিনব্যাপী বিভিন্ন অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কার্যক্রম শেষে বিকেলে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ীদের নগদ অর্থের পাশাপাশি সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ ছাড়া কার্নিভালে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদেরও সনদ প্রদান করা হয়।

আয়োজকদের মতে, তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে স্টেমভিত্তিক দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্যও এ ধরনের প্রতিযোগিতা ভূমিকা রাখতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স