ঢাকা

নতুন করে গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলেন জামায়াত নেতা আযাদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নতুন করে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারের কাছে তিনটি প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন।

হামিদুর রহমান আযাদের প্রশ্নগুলো হলো—আগের গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক অবস্থান কী; সেই গণরায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন গণভোটের প্রয়োজন কেন হলো; এবং নতুন গণভোটের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী, পাশাপাশি আগের গণরায়ের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পৃথক ব্যালটে একই দিনে এই গণভোট নেওয়া হয়।

আগের গণভোটের প্রসঙ্গ

নিজের বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। কিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়ে থাকলে আবার কেন গণভোট প্রয়োজন হচ্ছে—এটাই এখন সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন।

১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং সনদে উল্লেখিত সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের সম্মতি চাওয়া হয়েছিল। সরকারি নথি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে ওই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

গণভোটের ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬। পরে ফলাফলে সংশোধনীও আনা হয়।

আযাদ তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটের প্রশ্নে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তাঁর বক্তব্য, এখন যদি একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবার গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে প্রথমেই স্পষ্ট করতে হবে—আগের গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বর্তমানে কোন অবস্থানে রয়েছে।

তিন প্রশ্নের ব্যাখ্যা চান আযাদ

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগের গণরায় যদি কার্যকর ও বহাল থাকে, তাহলে একই বিষয়ে আবার গণভোট আয়োজনের প্রয়োজন কেন হয়েছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আর যদি আগের গণরায় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে সেই পুনর্বিবেচনার সাংবিধানিক ভিত্তি কী এবং কোন আইন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি আবার জনগণের সামনে আনা হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তাঁর মতে, নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করতে হলে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; আগের গণভোটের ফল, তার সাংবিধানিক মর্যাদা এবং নতুন প্রস্তাবের সঙ্গে তার সম্পর্কও পরিষ্কার করা দরকার।

আযাদ বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু ‘নতুন গণভোট’ আয়োজনের কথা বললে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

গণরায়ের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোট কোনো রাজনৈতিক দলের পছন্দ অনুযায়ী বারবার জনগণের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি বিশেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ফলে জনগণ কোনো বিষয়ে একবার মতামত দিলে সেই রায়ের মর্যাদা, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আগে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আগের গণরায়ের সাংবিধানিক অবস্থান অস্পষ্ট রেখে নতুন গণভোটের প্রশ্ন তোলা হলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

আযাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার যদি নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা, এর আইনগত ভিত্তি এবং আগের গণরায়ের সঙ্গে এর সম্পর্ক স্পষ্ট করে, তাহলে জনগণ সেই ব্যাখ্যা বিচার করবে।

‘জনগণের ভোট রাজনৈতিক সুবিধার বিষয় নয়’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ, বর্জন বা পুনর্বিবেচনার বিষয় হতে পারে না। জনগণ ভোট দেওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সেই রায়ের মর্যাদা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সরাসরি মতামতের গুরুত্ব রয়েছে। তাই ভোটের মাধ্যমে দেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হবে এবং সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে তার অবস্থান কী হবে, সেটি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্যে মূলত আগের গণভোটের ফলের সাংবিধানিক কার্যকারিতা, নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা এবং এর আইনগত ভিত্তি—এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

শেষে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণ ভোট দেওয়ার পর রাষ্ট্র সেই রায়কে কতটা সম্মান করে, সেটিই গণতন্ত্রের অন্যতম পরীক্ষা। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো—আগে জনগণের রায়, এরপর সেই রায়ের সাংবিধানিক মর্যাদা ও বাস্তবায়ন; নতুন কোনো গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হলে তার আগে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স