ঢাকা

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙার ঘটনা নজিরবিহীন, বললেন আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে এর আগে রাতের আঁধারে কোনো জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এবং রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ভাঙচুরের শিকার কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, চাঁদাবাজি, জমি ও বাড়ি দখলের মতো ঘটনা ঘটলেও একটি জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে জনস্বাস্থ্যকে আঘাত করা হয়েছে।’

‘১৯৭৪ সাল থেকে মানুষ সেবা পাচ্ছে’

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দরিদ্র মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চিকিৎসা ও টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছেন।

তাঁর দাবি, বিদেশি দাতা সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র শুধু একটি স্থাপনা নয়; এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ যুক্ত। ফলে এটি ভেঙে ফেলা একটি স্থাপনার ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ওপরও পড়তে পারে।

তিনি বলেন, জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কীভাবে রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, সেটি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তাও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সফরে থাকা অবস্থায় রাজধানীতে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, এতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রদূতদের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য বা নির্দিষ্ট কোনো কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেননি।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও একজন নারী সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে যারা সরাসরি জড়িত ছিল, তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

পুলিশের ভূমিকা তদন্তের দাবি

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সময় পুলিশ কাছাকাছি অবস্থান করলেও লুটপাট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি—এমন অভিযোগও করেন আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাঁর মতে, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি এবং তাদের কার্যক্রমের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোনো জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলে তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

‘নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে’

সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার দুই দিনের মধ্যে ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া আদাবরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, মুগদায় জমি দখলের অভিযোগ এবং আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় চাঁদার দাবিতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফুয়াদের মতে, এ ধরনের একাধিক ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। রাষ্ট্র নাগরিকের জানমাল, সম্পদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যর্থ হলে এ ধরনের উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

দ্রুত পুনর্নির্মাণের আহ্বান

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে সেখানে আগের মতো জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এলাকার মানুষের চিকিৎসা ও টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে, সেটি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিদর্শনের সময় এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া ও আলতাফ হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স